সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
ফেনী আলীয়া কামিল মাদ্রাসাটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম কামিল মাদ্রাসা সমূহের মধ্যে অন্যতম। মাদ্রাসাাটি ফেনী জেলা শহরের প্রান কেন্দ্রে প্রায় ৩ (তিন) একর জমির উপর সুপরিসর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। ১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দে এলাকাবাসির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রাক্তন এম, এল, এ মৌলভী ইব্রাহীম, মৌলভী আবদুর রাজ্জাক প্রাক্তন এম. পি. এ খায়েজ আহমদ প্রাথমিক উদ্যেগ গ্রহন করেন। পরবর্তী কালে বিশিষ্টি বুজুর্গ ও আলেম মাওলানা ওবায়দুল হক (রঃ) এর দীর্ঘ দিনের (কর্মকাল ১৯৩২-১৯৮১) চেষ্টা এবং সহকর্মি হিসাবে প্রখ্যাত মুহাদ্দিসবৃন্দ, সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের সহযোগীতায় পর্যায়ক্রমে এটি একটি আদর্শ ও শীর্ষ স্থানীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রূপে গড়ে উঠে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করে। মাদ্রাসাটি ১৯৩১ সালে আলিম ১৯৩৩ সালে ফাজিল এবং ১৯৫২ সালে সর্বোচ্চ কামিল স্তরে বাংলাদেশ মাদ্রারাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে ইহা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া- ঝিনাইদহ এর অধিনে একটি কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসা।
১৯৭৬ সালে সারা দেশের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত যে ২০ (বিশ) টি কামিল মাদ্রাসায় মাধ্যমিক এবং ১৯৭৮ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান শিক্ষা প্রবর্তিত হয় ত¤\ধ্যে ফেনী আলীয়া (কামিল) মাদ্রাসা ছিল অন্যতম। এর ফলে এই মাদ্রাসায় দ্বীনি শিক্ষার সাথে বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার সম্মন্বয় ঘটে। এ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত ছাত্ররা অন্যান্য বহু মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, প্রিন্সিপাল এবং মুহাদ্দিস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। এ জন্য ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক মহোদয় তাঁর লিখিত মন্তব্যে ফেনী আলীয়া (কামিল) মাদ্রাসাকে ‘‘উম্মুল মাদারেস’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় পঠিত কোর্স সমূহের মধ্যে রয়েছে ; কোরআন, হাদীছ, তাফসির, ফিকহ, আরবী সাহিত্য তথা দ্বীনি বিষয় সমূহের পাশাপাশি স্নাতক/ স্নাতকোত্তর বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাস প্রভৃতি মানবিক বিষয় এবং উচ্চ মাধ্যমিকস্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান,গণিত ও কৃষি। এখান থেকে শিক্ষা লাভ করার পর শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পর্যায়ে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলিতে ভর্তি হয়েও কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।